বিশ্বরেকর্ড করলেন বিরাট কোহলির

গতকাল সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ডের কাছে ৬০ রানে হেরেছে ভারত। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় দল সিরিজ হারলেও এদিন বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়লেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সাউদাম্পটনে চতুর্থ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রান করেন বিরাট কোহলি।

চলতি সিরিজে চার টেস্টে বিরাট কোহলির মোট রান ৫৪৪। ব্যাটিং গড় ৬৮। দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেছেন তিনটি হাফসেঞ্চুরিও। এখনও একটি টেস্ট বাকি আছে। বিরাটই প্রথম ভারত অধিনায়ক যিনি দেশের বাইরে কোনও টেস্ট সিরিজে ৫০০ রান করলেন।

ইংল্যান্ডের মাটিতে একটি সিরিজে সফরকারী দলের অধিনায়কদের রানের তালিকায় তিনি রয়েছেন বর্তমানে পাঁচ নম্বরে। গত রবিবারই ডন ব্র্যাডম্যানকে টপকে যান বিরাট। ১৯৪৮ সালে অ্যাসেজ সিরিজে ব্র্যাডম্যান করেছিলেন ৫০৮ রান। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বিরাট।

ভেঙে দিলেন ব্রায়ান লারার রেকর্ড। সবচেয়ে কম টেস্টে ও কম সময়ে ৪০০০ রান করলেন তিনি। ৩৯টি টেস্ট ও ৬৫টি ইনিংসে এই নজির গড়েন বিরাট। অধিনায়ক হিসেবে ৪০০০ টেস্ট রান করতে লারা নিয়েছিলেন ৪০টি টেস্ট ও ৭১টি ইনিংস।

বিরাট কোহলিই প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি অধিনায়ক হিসেবে ৪০০০ টেস্ট রান করলেন। এমন কি অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ৪০০০ রান করলেন বিরাট। এই রান করতে তাঁর সময় লাগল ৩ বছর ২৬৫ দিন।

কতটা ব্যস্ত থাকেন কোহলিরা?

অধিনায়ক কোহলিকে ছাড়াই এশিয়া কাপের দল ঘোষণা করে ভারত। কোহলিকে বিশ্রাম দিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আর কোহলির বদলে রোহিত শার্মাকে অধিনায়ক করে ১৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন বিসিসিআই নির্বাচকমন্ডলী।

প্রশ্নটা আগেই উঠেছিল, এশিয়া কাপে বিরাট কোহলিকে খেলানো কী ঠিক হবে? টানা খেলার যে চাপ যাচ্ছে তাঁর ওপর দিয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও টেস্ট সিরিজ আছে। সে ক্ষেত্রে এশিয়া কাপে কোহলিকে বিশ্রাম দেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত?

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ শুরু (১৫ সেপ্টেম্বর) হতে বাকি ১২ দিন। আর ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজের শেষ টেস্ট ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর। তার চারদিন পর, প্রায় আড়াই মাসের ক্লান্তিকর ইংল্যান্ড সফর শেষে আরব আমিরাতে পা রাখবে ভারতীয় দল। একই সঙ্গে ছোট খাট চোটেও ভুগছেন কোহলি। ঘাড়ের চোট কাটিয়ে ওঠার পর কয়েক মাস টানা খেলছেন। চলতি ইংল্যান্ড সিরিজেও লর্ডস টেস্টে পিঠের ব্যথায় ভুগেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। তাই দলের সেরা খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

এতেই বোঝা যায় ক্রিকেট বিশ্বের সেরা দলগুলো কতটা সময় খেলার মধ্যে থাকেন এবং কতটা ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। সে তুলনায় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো এতটা ব্যস্ত সময় পার করেন না। যার কারণেই সময় পেলেই ক্রিকেটারদের বিভিন্ন জায়গায় অবকাশ যাপন করতে দেখা যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, এফটিপি অনুযায়ী চলতি ইংল্যান্ড-ভারত টেস্ট সিরিজ বাদে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৫টি টেস্ট খেলবে। ২০১৯ বিশ্বকাপ বাদে ওয়ানডে খেলবে ২৭টি এবং টি২০ খেলবে ২০টি। অন্যদিকে এই সময়ে ইংল্যান্ড টেস্ট খেলবে ১৯টি। বিশ্বকাপ বাদে ওয়ানডে খেলবে ১১টি এবং টি২০ খেলবে ৮টি। ঠিক একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলবে ১৮টি, ওয়ানডে ১৯টি এবং টি২০ ১৫টি।

এই ছোট্ট পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে আগামী দেড় বছরে কতটা ব্যস্ত সময় পার করবে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তিন দল। উল্টোদিকে এই সময়ে বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে ১১টি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট খেলবে মাত্র ৮টি।



from SportsTier Bangla https://ift.tt/2LScLIN

Post a Comment

Previous Post Next Post

element